গত ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ Center For Work & Occupational Health Safety এর নেতৃবৃন্দ শ্রম সংস্কার কমিশনে মতামত প্রদানকালে সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ সংশোধনসহ ৭ দফা দাবি শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এর হাতে হস্তান্তর করেন। আমাদের উল্লেখিত দাবির মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ি আবেদনের সময়সীমা ৩০ দিন বাতিল অথবা অন্তত ১০৫ দিন করার দাবি জানানো হয়।

আমাদের দাবি অনুযায়ি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য আবেদন করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হতো, এখন সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৯০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ প্রকাশিত আজকের পত্রিকা থেকে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি,২০২৬ সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২ সংশোধনের গেজেট প্রকাশ হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় এই পরিবর্তন যুক্ত করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি অথবা নিহতের পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ পেতে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। আগে এই আবেদন করতে হতো ম্যানুয়ালি, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ। এখন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি) ব্যবহার করে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে।

বিআরটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, সময়সীমা বাড়ানোর ফলে ভুক্তভোগীরা উপকৃত হবেন। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পরপরই চিকিৎসা, মানসিক চাপ ও নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা সম্ভব হয় না। সময় বাড়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রস্তুত এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা তুলনামূলক সহজ হবে।

সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের সহায়তায় কাজ করা বেসরকারি সংগঠন সেন্টার ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড অকুপেশনাল হেলথ সেফটির প্রধান সমন্বয়কারী মো. সেলিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ। এতে করে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থায় আরও বেশি মানুষ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং ভুক্তভোগীরা আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না’। তথ্যসূত্র আজকের পত্রিকা