সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার পায় ৫ লাখ টাকা এবং আহত ব্যক্তি পান ৩ লাখ বা ১ লাখ টাকা। তবে এই ক্ষতিপূরণ পেতে দুর্ঘটনার এক মাসের (৩০ দিনের) মধ্যে আবেদন করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময় পার হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

গত ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এর বনানীস্থ প্রধান কার্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতেই অনলাইনে আবেদন চালু করা হয়েছে। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে। ক্ষতিগ্রস্তরা যেন বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই প্রক্রিয়াটি সহজ করা হচ্ছে। বর্তমানে আবেদন করার সময়সীমা ৩০ দিন রয়েছে। এটি বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিধিমালা সংশোধন হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া আরও সহজ হবে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে বিআরটিএ এর সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এ লগ ইন করতে হবে। এরপর ‘আর্থিক সহায়তা তহবিল’ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণ শেষে আবেদনকারী একটি একনলেজমেন্ট স্লিপ পাবেন। পরে আবেদনটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।

পূর্বে এই ক্ষতিপূরণের জন্য দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে হতো। ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ সোমবার থেকে সেই আবেদন প্রক্রিয়া বিআরটিএ-এর সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি) ব্যবহার করে অনলাইনে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা যাবে। তবে আগের মতোই আবেদন করতে হবে দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিআরটিএর পরিচালক (অডিট ও আইন) ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যসচিব রুবাইয়াৎ-ই-আশিক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের জন্য যেসব আবেদন আসে, সেসবের বড় একটি অংশে ফরম সঠিকভাবে পূরণ করা হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা হয় না। ফলে অনেকেই আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। আজ থেকে অনলাইনে আবেদনপ্রক্রিয়া চালু হলো। যেহেতু নতুন উদ্যোগ, শুরুতে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ঠিক হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর। বিআরটিএর তথ্যমতে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ৬৪১টি চেক বিতরণ করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। এর মধ্যে নিহত ২ হাজার ১৯৫ জন, আহত ৩১৬ জন এবং গুরুতর আহত ১৩০ জনের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. জাকির হোসেন, পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও রোড সেফটি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পরিচালক (অপারেশন)  মীর আহমেদ তারিকুলসহ সংস্থাটির অন্য কর্মকর্তারা। সূত্র- আজকের পত্রিকা