ভূমিকা -
আমাদের লক্ষ্য সড়ক পরিবহণ শ্রমিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সকলের জন্য একটি নিরাপদ সড়ক তৈরি করা। কাজ ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেন্দ্র (CWOHS) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণে যুক্ত সরকারি/বেসরকারি সড়ক পরিবহণ শ্রমিকদের শ্রম অধিকার, শোভন কাজ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কাজ করে । তাছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিবহণ শ্রমিকদের জন্য ন্যায় নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক বা তাদের পরিবারের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। কাজ ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেন্দ্র এর মূল লক্ষ্য হলো সড়ক পরিবহণ শ্রমিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং সকলের জন্য একটি নিরাপদ সড়ক তৈরি করা।
লক্ষ্য-
CWOHS এমন একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে যেখানে সকল সড়ক পরিবহণ শ্রমিক একটি নিরাপদ ও ন্যায্য কর্ম পরিবেশে কাজ করবেন এবং যেখানে কোনও শিশুকে শ্রমের শিকার হতে হবে না। আমরা পরিবহণ শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের জন্য একটি শক্তিশালী সহায়তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং শিশুশ্রম নির্মূল করার লক্ষ্যে কাজ করি, যাতে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।
মূল মূল্যবোধ
ন্যায় বিচার: সড়ক পরিবহণ শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও আইনি সুরক্ষা প্রদান করা।
নিরাপত্তা: সকল পরিবহণ শ্রমিকের জন্য উপযুক্ত কাজ এবং সুস্বাস্থ্যের প্রচার করা।
সমতা: শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং সকল পরিবহণ শ্রমিকের জন্য সমান সুযোগ প্রদান করা।
সহযোগিতা: সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহণ শ্রমিক বা তাদের পরিবারকে সার্বিক সহায়তা প্রদান।
কার্যকর অংশীদার: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত দুই শতাধিক অনুমোদিত পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন।
সহযোগিতা: আমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারি সংস্থা, এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করা।
১. পরিবহণ শ্রমিকদের জন্য ন্যায় বিচার-
উদ্দেশ্য: সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্যান্য অবৈধ মামলায় জড়িত পরিবহণ শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করা।
আইনি সহায়তা: সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্যায্য কাজের জন্য দায়ী করা পরিবহণ শ্রমিকদের আইনি সহায়তা এবং প্রতিনিধিত্ব প্রদান।
ক্ষতিপূরণ অ্যাডভোকেসি: সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা মৃত্যুবরণকারি শ্রমিক বা তাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করা।
সচেতনতামূলক প্রচারণা: সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, পরিবহণ শ্রমিকদের অধিকার এবং তাদের বর্তমান এবং ভবিষৎ চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে শ্রমিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।
২. নিরাপত্তা প্রমোশন-
উদ্দেশ্য: পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।
নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ: পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রদান করা।
স্বাস্থ্য ক্যাম্প: পরিবহণ শ্রমিকদের জন্য ব্যাপক চিকিৎসা ক্যাম্প কর্মসূচি প্রদান।
প্রতিরোধ গবেষণা: পরিবহণ শ্রমিকদের উপর জলবায়ুু পরিবর্তনের প্রভাব, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সড়ক দুর্ঘটনার খারাপ প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা পরিচালনা এবং ফলাফল প্রচার করা।
তথ্যভান্ডার: সারা দেশে সড়ক পরিবহণ শ্রমিক, মালিক, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিক, অবসর গ্রহণের পর দুর্বিসহ জীবনযাপনকারী শ্রমিকদের জন্য অনলাইন ভিত্তিক তথ্য ব্যাংক তৈরি করা।
৩. শিশু শ্রম নির্মূল-
উদ্দেশ্য: শিশু শ্রম নির্মূল করা এবং শিশুদের শিক্ষার সুযোগ প্রদান করা।
উদ্ধার অভিযান: শ্রম পরিস্থিতি থেকে শিশুদের উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা।
শিক্ষা কর্মসূচি: উদ্ধারকৃত শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ এবং সহায়তা প্রদান করা।
সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা: শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিশু শ্রমের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করা।
৪. সহায়তা পরিষেবা-
উদ্দেশ্য: পরিবহণ শ্রমিক বা তাদের পরিবারকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা।
কাউন্সেলিং পরিষেবা: শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা।
আর্থিক সহায়তা: সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহণ শ্রমিক বা তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
গুরুত্বপূর্ণ অর্জন
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত/মৃত এই পর্যন্ত ১১৫ জন পরিবহণ শ্রমিক, যাত্রী অথবা তাদের পরিবারের জন্য সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর অধীনে সৃষ্ট ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আর্থক সহায়তা বোর্ড (ট্রাষ্টি বোর্ড) থেকে দুই কোটি ৬৫ লক্ষ টাকারও অধিক আদায়ে সফলভাবে সহায়তা করা হয়েছে।
কাজ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সহায়তা কেন্দ্র (CWOHS) ২০১৭ সালে বিচারকার্যে দোষী সাব্যস্ত বাস চালক "জামির হোসেন" এর সড়ক দুর্ঘটনার উপর ভিত্তি করে "সোশ্যাল ক্রসফায়ার" শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র সফলভাবে প্রিমিয়ার ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর করা হয়, যার লক্ষ্য জনগণকে এই বার্তা প্রদর্শন/প্রচার করে সচেতন করা যে প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনার পিছনে চালককে দোষী সাব্যস্ত করার ধারণা যুক্তিসঙ্গত নয়; বরং যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন, যাতে কোনও নিরপরাধ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত না হয়।
পুনর্বাসন কর্মসূচি: আহত শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে পুনরায় একীভূত হতে সহায়তা করার জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি তৈরি করা।
পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার এবং সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দেশব্যাপী পরিচালিত প্রচারণার মাধ্যমে ২৩টি জেলায় "সোশ্যাল ক্রসফায়ার" শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রিমিয়ার করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-
১. বাংলাদেশের আরও বেশি অঞ্চলে পরিবহণ শ্রমিকদের সহায়তার জন্য আইনি সহায়তা পরিষেবা সম্প্রসারণ করা।
২. স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য ব্যাপকমাত্রায় মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা।
৩. সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা পালন করা।
৪. প্রতিরক্ষামূলক গাড়ি চালনা বা ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং সম্পর্কে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
৫. শিশুশ্রম নির্মূলের প্রচেষ্টা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সাথে সহযোগিতা করা।
৬. উদ্ধারকৃত শিশুদের জন্য আরও শিক্ষাগত সুযোগ-সুবিধা এবং সহায়তা পরিষেবা প্রতিষ্ঠা করা।
৭. গবেষণা করা
আমাদের কাজে জড়িত হোন
কাজ ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেন্দ্র (CWOHS) তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যক্তি, সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তার উপর নির্ভর করে। আপনি কীভাবে সাহায্য করতে পারেন তা এখানে দেওয়া হল:
দান করুন: আপনার অবদান আমাদের আইনি সহায়তা, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং অর্থিক সহায়তা পরিষেবা প্রদানে সহায়তা করে।
স্বেচ্ছাসেবক: আমাদের সাথে যোগ দিন এবং পরিবহণ শ্রমিক এবং শিশুদের জীবনে পরিবর্তন আনুন।
অংশীদার: আমাদের প্রভাব প্রসারিত করতে আমাদের সাথে সহযোগিতা করুন।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:
যোগাযোগ ব্যক্তি: মো. সেলিম
প্রধান সমন্বয়কারী
কাজ ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেন্দ্র (CWOHS)
ঠিকানা: ৮/৪এ, (৫ম তলা) সেগুন বাগিচা, ঢাকা-১০০০
ফোন: +৮৮০১৯৬৩৪৭১৬৭৩, +৮৮০১৮৪৫৬০৬৯৯১ ইমেল: salimatm69@gmail.com; info@whsacbd.org: salim@whsacbd,org: Website: https://whsacbd.org
বাংলাদেশে সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ও শিশুদের জন্য ন্যায্য, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের লক্ষ্যে CWOHS-এ যোগদান করুন।