১,৩০০ টিরও বেশি পরিবারের আবেদন জমা দেওয়ার পরে সরকারি তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় রয়েছে। আরও হাজার হাজার তহবিল সম্পর্কে অবগত নয়। সড়ক দুর্ঘটনার বেশিরভাগ পরিবারই তাদের প্রিয়জনকে হারানোর মানসিক এবং আর্থিক ক্ষতির সাথে লড়াই করে, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল একমাত্র উপার্জনকারী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ভুক্তভোগীরা নিজেরাই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারানোসহ জীবন-পরিবর্তনকারী আঘাতের কারণে আর কাজ করতে পারেন না। কোনো ক্ষতিপূরণ না পেয়ে, তাদের জীবন পুননির্মাণের জন্য তারা একটি অনিশ্চিত এবং অন্ধকার ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিগত সরকার গত বছরের জানুয়ারিতে একটি আইনের আওতায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত/নিহত বা তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয় এবং একটি তহবিলও গঠন করা হয়। তবে, ১,৯৪০ জনের পরিবার যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে মাত্র ৫৯২ জন সড়ক দুর্ঘটনার মৃত বা আহত এই বছরের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। অন্যদিকে, বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত ১০,৫১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২২,৮৫৫ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। তাদের সবার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। ক্ষতিপূরণের জন্য মাত্র ২৬.৩৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যদিও বিআরটিএ এর তথ্য অনুসারে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ২২৫.৪৩ কোটি টাকা ট্রাস্টি বোর্ডে জমা হয়েছে।
প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, আবার অনেকে জীবন পরিবর্তনকারী আঘাতের শিকার হয়। যাইহোক, ২০১৮ সালে সড়ক পরিবহণ আইন কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশে ক্ষতিপূরণ একটি বিরল ধারণা ছিল। মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩-এর অধীনে, যা রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ২০১৯ সালের নভেম্বরে কার্যকর হওয়ার পরে বাতিল করা হয়েছিল, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনায় মৃত্যু, আঘাত এবং সম্পত্তির ক্ষতির জন্য সড়ক দুর্ঘটনা দাবি ট্রাইব্যুনালে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন। তবে, ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করার নজির বিরল।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী, সরকার একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি তহবিল গঠন করে। আইনের বিধি প্রণয়নের পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের অক্টোবরে।
আইন অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যারা একটি অঙ্গ হারান বা জীবন পরিবর্তনকারী অন্যান্য ধরনের আঘাতে ভোগেন তারা প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকা পাবেন, আর যারা আঘাত থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন তারা প্রত্যেকে ১ লাখ টাকা করে পাবেন।
বিআরটিএ এর তথ্য মতে, চলতি বছরের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত ট্রাস্টি বোর্ড ক্ষতিপূরণ চেয়ে ১,৯৪০টি আবেদন পেয়েছে। এর মধ্যে ১,৮৩৫ জনকে তদন্তের জন্য স্থায়ী তদন্ত কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং কমিটি এ পর্যন্ত ৬৫৪টি আবেদনের বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। কর্র্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত ২৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ৫৯২টি চেক (৫০১ জন নিহত ও ৯১ জন আহতের ক্ষেত্রে) হস্তান্তর করেছে।
নিয়মানুযায়ি, যারা ক্ষতিপূরণ চাইছেন তাদের একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার এক মাসের মধ্যে কিছু বিবরণ সহ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে। চেয়ারম্যান আবেদন পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন এবং কমিটি এক মাসের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পদক্ষেপ নেবে।
তবে অধিকাংশ সড়ক শ্রমিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন নন এবং অনেকে অপেক্ষাকৃত প্রযুক্তিগত এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হন। প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা উচিত যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্যোগের সুবিধা পান।