২০১৮ সালে সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তার বিধান যুক্ত করে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয় গত বছরের ৩ জানুয়ারি। এ পর্যন্ত এক বছরের বেশি সময়ে ১৯৪ জনকে মোট ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। মূলত গত ১৯ অক্টোবর প্রথমবার একসঙ্গে ১৬২ জনকে প্রায় সাত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সড়ক পরিবহন ক্ষতিপূরণ বিধিমালা অনুসারে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা গেলে ভুক্তভোগী শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানি হলে ভুক্তভোগী শ্রমিক পাবেন তিন লাখ টাকা। আহত কারও চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকলে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় তিন লাখ টাকা। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকলে পান এক লাখ টাকা।
সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিমালা অনুসারে, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত প্রত্যেক শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার এর জন্য তহবিলও গঠন করেছে। কিন্তু প্রচারের অভাবে আর শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এর উদাসিনতায় তা জানতে পারছেন না ভুক্তভোগী শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকের স্বজনেরা। সরকারি হিসাবে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে পরের ১৫ মাসে যত মানুষ হতাহত হয়েছেন, তার মাত্র ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্র বলছে, বড় দুর্ঘটনা, হতাহত বেশি হলে তা সারা দেশে আলোচিত হয়। এসব ঘটনায় বিআরটিএ বা কিছু কিছু বেসরকারি সংস্থা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের অবহিত করার চেষ্টা করে। আর ভুক্তভোগী শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না তাছাড়া শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এই বিষয়ে উদাসিন বলে এই সুবিধা থেকে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বঞ্চিত শ্রমিকরা মূলত দরিদ্র, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন বা স্বল্পশিক্ষিত এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষ।